সন্ধানে বাংলাদেশ সংবাদ

 এলাকাবাসীর আতঙ্কের নাম রইছ উদ্দিন 



মোফাজ্জল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:


ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রইছ উদ্দিনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।


রইছ উদ্দিনের অত্যাচারের প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে গত ১০ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন একই উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের ছোট বৃ-ডৌহাখলা গ্রামের স্বর্গীয় নারায়ন চন্দ্র রায় (নারায়ন স্যার) এর ছেলে কটন রায় চৌধুরী বিধান।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত, মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ছোট বৃ-ডৌহাখলা গ্রামের বাসিন্দা মো. রইছ উদ্দিন সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহার করে এলাকার সাধারণ মানুষদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে, এমনকি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমানা করিয়া সারা জীবন জেল কাটাইবে এরকমও হুংকার দিয়ে আসছে।


এছাড়াও রইছ উদ্দিন শুধু হুমকি দামকী দিয়েই ক্ষান্ত হননি মামলাবাজ হিসেবেও এলাকায় বেশ পরিচিত। রইছ উদ্দিন বৃ-ডৌহাখলা গ্রামে ৮৭৯ নং দাগের ০২ শতাংশ ভূমি দানপত্র দলিল মূলে মালিক হন আবার একই দাগের ১৮ শতাংশ ভূমি সাফ কাওলা মূলে ক্রয় করেন হাফেজ মো. আব্দুল কদ্দুছ উক্ত ১৮ শতক ভূমি হাফেজ মো. আব্দুল কদ্দুছ সাফ কাওলা মূলে কটন রায় চৌধুরী বিধানের কাছে বিক্রি করেন।  হাফেজ মো. আব্দুল কদ্দুছের ক্রয়কৃত ১৮ শতক ভূমি রইছ উদ্দিনের কাছে বিক্রি না করে কটন রায় চৌধুরী বিধানের কাছে বিক্রি করায় হাফেজ আব্দুল কদ্দুছের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবিসহ ময়মনসিংহ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে মামলা করেন এবং মোটরসাইকেল ভাংচুরসহ নগদ টাকা ছিনতাই করেন রইছ উদ্দিন।


কটন রায় চৌধুরী বিধানের ক্রয়কৃত ১৮ শতক ভূমি বেআইনি এবং অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করে ভোগ দখলের চেষ্টা, হুমকি দামকী প্রিয়েশনের অজুহাত দেখিয়ে ময়মনসিংহ বিজ্ঞ গৌরীপুর সহকারী জজ আদালতে কটন রায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন মামলা বাজ রইছ উদ্দিন।

এছাড়াও রইছ উদ্দিন ছোট বৃ-ডৌহাখলা গ্রামের. আব্দুস সালামের কন্যাকে জোড়পূর্বকভাবে বিবাহ করার চেষ্টা করে এতে ওই পরিবার বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় মেয়ের বাবা আব্দুস সালাম, হাফেজ মো. আব্দুল কদ্দুছ, মৃণাল মিত্র ও পল্লবী মিয়াকে আসামী করে গৌরীপুর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।


৮ নং ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. এ কাইয়ুম বলেন- রইছ উদ্দিন গৌরীপুর ইউএনও অফিসে কর্মরত। সে এলাকায় মামলাবাজ হিসেবে পরিচিত এবং অত্যন্ত দুষ্টু প্রকৃতির লোক। এছাড়াও তার স্ত্রী আমার ইউনিয়ন পরিষদে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করত অর্থনৈতিক দুর্নীতির দায়ে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


এলাকাবাসী বলেন- রইছ উদ্দিন গৌরীপুর ইউএনও অফিসে চাকরি করে বলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে। সে ছোট বৃ-ডৌহাখলা গ্রামের আতঙ্ক, তার ভয়ে কেউ কোন কথা বলতে পারে না, আর যেই তার বিরুদ্ধে সত্য কথা বলে তাকেই সে মামলা দিয়ে দেয়।

তারা আরও বলেন, রইছ উদ্দিন কেমন মায়ের সন্তান তার মা মারা গিয়েছিল অথচ এলাকায় থাকার পরও সে তার মায়ের জানাজায় যাওয়ার তো দূরের কথা মৃত লাশটিও দেখতে যায়নি।


গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসে কর্মরত সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ছোট বৃ-ডৌহাখলা গ্রামের বাসিন্দা মো. রইছ উদ্দিন বলেন- আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। একটি কুচক্রী মহল আমার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে গুজব ছড়াচ্ছে।

Post a Comment

أحدث أقدم